মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪৬ অপরাহ্ন
জাহাঙ্গীর আলম, ভালুকা (ময়মনসিংহ): ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথে আওয়ামীলীগ থেকে বিএনপি বনে গেছেন ভালুকার আওয়ামী লীগ নেতা সবুজ গাজী। এর আগেও বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে স্থানান্তরিত হয়েছিল এই সবুজ গাজী। সম্প্রতি বিএনপির এক কর্মী সমাবেশে এবং উপজেলা বিএনপির শ্রমিকদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটির সহ-সম্পাদক পদে তাকে থাকতে দেখে আওয়ামীলীগে যোগদানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এর পর থেকে সমালোচনার ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান বাচ্চু’র উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন সবুজ গাজী। বর্তমানে নানামুখী কৌশলে বিএনপিতে স্থান দখল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে এই আওয়ামী লীগ নেতা সবুজ গাজী। ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের করাতিবাড়ি জহিরুল ইসলামের ছেলে সবুজ গাজী আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেতা এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ বাচ্চুর খুবই আস্থাভাজন বলে পরিচিত।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভালুকা উপজেলা হবিরবাড়ি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী খাদেমুল ইসলাম মনার ভাতিজা সবুজ গাজী এক সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগদেন। এমনকি জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণাও করেন। বর্তমানে নিজেকে বিএনপি নেতা বলে পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এখন বিএনপির ‘নেতাকর্মী’ সেজে গেছেন। দাপট দেখাতে শুরু করেছেন নিজ এলাকায়।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক নেতা বলেন, গত ৫ আগস্ট এর পর তিনি হঠাৎ করে প্রকাশ্যে দল নিয়ে বিএনপির কর্মী সমাবেশ করছেন। এটা দুঃখজনক। এতে করে ভালুকা উপজেলার বিএনপির ওপরে আস্থা হারাচ্ছেন সাধারণ জনগণ। দ্রুত হাইকমান্ডকে তার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই আমরা।
দল পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে সবুজ গাজী বলেন, আমার দাদার আমল থেকে আমরা বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। আমি বিএনপিতে নতুন যোগদান করিনি। ইতিপূর্বে আমি ছাত্ররাজনীতিসহ যুবদল, শ্রমিকদলসহ বেশ কয়েকটি বিএনপির অঙ্গসহযোগী সংগঠনের কমিটিতে ছিলাম। ভাইরাল হওয়া ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৮ সালে আমাকে বাচ্চু চেয়ারম্যান জিম্মি করে একটি প্রোগ্রামে নিয়ে যান। সেখানে শুধু আমি না আরো অনেকেই ছিল। আমার প্রতিপক্ষ আমাকে বে-কায়দায় ফেলতে ৪৮ মিনিটের ভিডিওটা কাটিং করে শুধু আমার ভিডিওটা ভাইরাল করেছে।